শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৪:৪৯ সময়
নিজস্ব প্রতিবেদকশনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১২:৫২ সময় 0237
গাজীপুরের গাছায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় অবস্থিত শ্রম কল্যাণ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয়দানকারী আরিফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর)২০২৫ইং সকালে নগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরপরই এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্কুল প্রাঙ্গণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে গাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তবে উত্তেজিত জনতার কারণে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়।
একপর্যায়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান জাতীয় জরুরী সেবার ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ,শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন,এমনকি দাপটের সহিত চলাফেরা করেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্কুলে স্বেচ্ছাচারিতার পাশাপাশি একাধিক মেয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,হান্নান গ্রুপের কর্ণধার সামছুদ্দিন দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় প্রায় আড়াই বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাস পুকুর মাটি ভরাট করে দখলের পায়তারা করে আসছেন। সেই দখলকৃত জমিতেই শ্রম কল্যাণ নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
এ বিষয়ে গাছা থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।